Monday , January 27 2020

জন্মেই মা হারানো সন্তানের মত দুর্ভাগা আর কেউ আছে কি?

ছোট্ট বাবুইটার নাম আলিফ! কোলে উঠেই একের পর এক হাঁচি দিয়ে যায় পাখিটা। এত সুন্দর, শুভ্র পাখিটার মাত্র কয়েক মাস চলে!

নিয়তির এমন কঠিন খেলা যে জন্মের পরপরই মায়ের ভালবাসার হাত উঠে যায় ওর মাথা

থেকে। ক্যান্সার আক্রান্ত মা আলিফকে ফেলে চলে যান সেই দূর সীমানায়। আহা!

জন্মেই মা হারানো সন্তানের মত দুর্ভাগা আর কেউ আছে কি? বাবা থেকেও না থাকার মত। আমি জানি না স্রষ্টার কোন অগ্নিপরীক্ষা এটি! আহা! এত ছোট্ট আদরের সোনা, মা ডেকে

ডেকে কারো কোলে ঝাঁপিয়ে পড়তে পারবে না, মায়ের শরীরের যে বিশেষ ঘ্রাণ সেটুকুও পাবে না! একটা ছোট্ট সুখস্মৃতিও থাকবে না মাকে নিয়ে বলার মত- হায় এ তবে কেমন বেঁচে থাকা?

আলিফ নামের পাখিটা নাম না জানা চাচুর সাথে একটু থেকেই মামা, মামীর সাথে চলে যায়।

প্রকৃত অর্থেই কিচ্ছু চাওয়ার নেই, এই নিষ্ঠুর পৃথিবীতে বেড়ে উঠতে উঠতে ও শুধু এতটুকু বুঝুক একজনকে জড়িয়ে ধরে কান্নার মত প্রশস্ত একটি বুক ওর জন্য রয়েছে! নিজেও

হয়তো এক সময় সে বুঝে যাবে, আত্মার আত্মীয় না পেলে মানুষকে ভালবেসেই সে ক্ষুধা মেটাতে হয়। যেমনটি ভালবেসে যায় অনেকেই..!

আলিফের চাচু বসে বসে হিসেব মেলায়, আলিফ আর তার চাচুর মাঝেও প্রভেদ তেমন নেই।

চাচুরা অনেক বড় তারপরও কখনো কখনো তাদেরও বুক ভেঙে কান্না আসে, সেই অদৃশ্য কান্না অজান্তেই হারিয়ে যায়। কেউ দেখে না সে কান্না!

প্রকৃতি অবিচার করে না তাই হঠাৎই উপস্থিত হয়ে যান জমিরন বেগম! তিনি অনেকটা দাদী, নানীদের মত। আলিফের চাচুকে বাবা বলে ডাকেন! মুহূর্তেই কষ্ট দূর করে দেয়ার মত

শক্তিশালী কিছু জমিরুন বেগমের মাঝে রয়েছে। এসেই বাবা ডেকে চুমু খেয়ে জড়িয়ে ধরেন!

এই ভালবাসায় থাকে না কোনো লোভ, জড়িয়ে থাকে শুধু অকৃত্রিম মমতা। প্রকৃতি এভাবেই ঘুরে ফিরে একজনকে আরেকজনের অবলম্বন বানিয়ে দেয়!

আত্মার আত্মীয় না হয়েও এরা একে অপরকে ভালবেসে যায় শুধুমাত্র মানব ধর্মের শক্তির জোরে….

বিশ্বাস করি ভালবাসার জোরেই এ পৃথিবী হতে পারে আলিফের, জমিরুন বেগমের অথবা আলিফের চাচুর! তাই, একটু নয়তো ভালবেসেই যেও!

লেখক: ইফতেখায়রুল ইসলাম
অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (প্রশাসন), ওয়ারী বিভাগ, ডিএমপি, ঢাকা।
(ফেসবুক থেকে সংগৃহীত)