কেন্দ্র ভাংচুর, পরিদর্শককে পেটালো এসএসসি পরীক্ষার্থীরা!

0
240

এসএসসি পরীক্ষায় চলাকালীন সময় পটুয়াখালীর বাউফল আদর্শ বালিকা উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয় ভেন্যুকেন্দ্রে ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে। মারধর করা হয়েছে এক কক্ষপরিদর্শককে। এসময় প্রধান শিক্ষকের অফিস কক্ষে আশ্রয় নিয়ে আত্মরক্ষা করেছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেট।

শনিবার গণিত পরীক্ষায় ক্যালকুলেটর ব্যবহার নিয়ে একজন কক্ষ পরিদর্শকদের সঙ্গে পরীক্ষার্থীদের ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়। পরীক্ষা শেষে বিক্ষুদ্ধ একদল পরীক্ষার্থী এ ঘটনা ঘটায়।

জানা গেছে, নৈব্যক্তিক শেষে সৃজনশীল পরীক্ষা শুরুর মুহুর্তে হলের কয়েকজন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে সাইন্টেফিক ক্যালকুলেটার নিয়ে যান পরিদর্শক নজরুল ইসলাম। এতে পরীক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষের সৃষ্টি হলে তাৎক্ষণিক বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পিজুস কান্তি দেকে অবহিত করা হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে কিছুক্ষণের মধ্যেই ক্যালকুলেটর ফিরিয়ে দেওয়া হয় পরীক্ষার্থীদের। এরপর পরীক্ষা শেষ হলে ওই কক্ষ পরিদর্শক খাতা নিয়ে অফিস কক্ষে যাওয়ার সময় তার সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করে কয়েকজন পরীক্ষার্থী। এ সময় এক পরীক্ষার্থীর অভিভাবক তাকে মারধর করে বলে অভিযোগ শিক্ষকের। চিৎকার শুনে দায়িত্বরত ম্যাজিস্ট্রেট ও বাউফল উপজেলা পল্লী উন্নয়ন অফিসার মাহবুবা বেগম এগিয়ে এলে তার সঙ্গেও অসৌজন্যমূলক আচরণ করা হয়। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাহানারা বেগমের কক্ষে আশ্রয় নেন ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুবা বেগম।

এসময় বিক্ষুদ্ধ পরীক্ষার্থীরা প্রধান শিক্ষকের কক্ষের দরজায় লাথি মেরে ভেতরে জ্যামিতিবক্স, স্কেল, কম্পাস ইত্যাদি ছুড়ে মারে। ভেতর থেকে দরজা আটকে দেয়া হলে পরীক্ষার্থীরা প্রধান শিক্ষকের কক্ষের পেছনের জানালার কাচ ভাংচুর করে। খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার পিজুস চন্দ্র দে, বাউফল সার্কেলের এএসপি মো. ফারুক হোসেন ও ওসি (তদন্ত) মো. মাকসুদুর রহমান মুরাদসহ পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি শান্ত করেন। এ ঘটনায় বালিকা উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাহারা বেগম বাউফল থানায় একটি অভিযোগ দাখিল করেছেন।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পিজুস চন্দ্র দে বলেন, গণিত পরীক্ষায় সাইনন্টেফিক ক্যালকুলেটর ব্যবহার নিয়ে ভেন্যুর ১নং কক্ষে পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে পরিদর্শকের ভুল বোঝাবুঝি হয়। ঘটনাটি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ads