কন্যা সন্তান হলে ফি নেন না, উপরন্তু মিষ্টি বিতরণ করেন এই মহিলা ডাক্তার

0
471

নানান সরকারি কার্যক্রম, স্কুলের পড়াশোনা ও সামাজিক আলোচনার মধ্যেও আমাদের দেশে ছেলে-মেয়েদের মধ্যে পার্থক্য করে বেশিরভাগ মানুষ। প্রতিদিনই মেয়েদের উপর নানান অকথ্য নির্যাতনের খবর চোখে আসে।তার মধ্যে গর্ভস্থ শিশুর লিঙ্গ নির্ধারণ করে মেয়ে শিশুর গর্ভবস্থাতেই হত্যা করা অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। এই মৃত ভ্রুণ উদ্ধার হতে দেখা যায় বিভিন্ন যায়গায়। অনেক পরিবারের সদস্যরা মেয়ে সন্তান হলে খুব কষ্ট পায়। এমনকি মেয়ের জন্ম হলে ভবিষতের কথা ভেবে কাঁদতে শুরু করেন অনেকেই।

এত কিছুর পরও আমাদের চারপাশে এমন কিছু মানুষ আছে যারা মেয়েদের জন্য দুহাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। যাতে তারা সমাজের বুকে মাথা উঁচু করে বাঁচতে পারে। মেয়ে সন্তান জন্ম হওয়া সবচেয়ে বড় উপহার হিসাবেই মনে করে থাকেন তারা। এমনই এক ডাক্তার শিপ্রা ধর। তার নিজস্ব নার্সিংহোমে মেয়ে বাচ্চার জন্ম হলেই সবকিছু সম্পূর্ণ ফ্রি। এমনকি অপরেশনের জন্যেও কোন টাকা নেন না তিনি। উপরন্ত মেয়ের জন্ম হলে নার্সিংহোমে উপস্থিত সকলের মধ্যে মিষ্টি বিতরণ করেন ডাক্তার শিপ্রা ধর।

ডাক্তার শিপ্রা ধর বারানসিতে একটি নার্সিংহোম চালান। তিনি তাঁর নার্সিংহোমে এই পর্যন্ত ১০০ জন মেয়ে সন্তানের সফল ডেলিভারি করিয়েছেন। যখন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বারানসিতে আসেন, তখন শিপ্রা ধরের কাহিনী শুনে বেশ প্রভাবিত হন। মোদির সঙ্গে শিপ্রা ধর দেখাও করেন। প্রধানমন্ত্রী সেই মঞ্চ থেকেই দেশের সমস্ত ডাক্তারের কাছে আবেদন করেন, মাসের ৯ তারিখে সন্তান জন্ম নিলে আপনারা কোন ফি যেন না নেন।

শিপ্রা ধরের নিজস্ব নার্সিংহোমে মহিলা সন্তান হলে যেমন ছাড় আছে, ঠিক তার পরবর্তী দিনগুলো যেন সুখের হয়, তার জন্যও মহিলারদেরকে যেসব সুবিধা সরকার দিয়ে থাকে তা পাইয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করেন। শিপ্রা ধরের স্বামী মনোজ কুমার শ্রীবাস্তব একজন ডাক্তার। তিনিও উৎসাহ দেন স্ত্রীর এই সামাজিক কাজে। এই মহিলা ডাক্তারকে এক কথায় কি বলবেন কমেন্ট বক্স এ জানান ভালো লাগলে সেেয়ার করুন।

৩ সন্তানের জনকের সাথে পালিয়েছে প্রবাসীর স্ত্রী :: কুমিল্লার বরুড়ায় ৩ সন্তানের জনকের সাথে প্রবাসী দেলোয়ারের স্ত্রী ৪ সন্তানের জননী ফারজানা আক্তার খুকি (২৮) পালিয়ে গেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।এ ঘটনায় দেলোয়ারের পিতা মোহাম্মদ আলী (১০৬) বাদী হয়ে পরোকিয়া প্রেমিক জালাল উদ্দিনকে আসামী করে বরুড়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইসলামী শরিয়া মোতাবেক ১৮ বছর পূর্বে পৌরসভার ৪ নং ওয়ার্ডের বরাইয়া গ্রামের মোহাম্মদ আলীর ছেলে প্রবাসী দেলোয়ার হোসেনের সাথে ১০ নং শিলমুড়ী (উঃ) ইউনিয়নের জীবনপুর গ্রামের হাফিজ মিয়ার মেয়ে ফারজানা আক্তার খুকির বিবাহ অনুষ্ঠিত হয়।তাদের ১৮ বছরের দাম্পত্য জীবনে ১ ছেলে ৩ কন্যা সন্তান রয়েছে বলে জানা যায়। স্বামী ও শশুর বাড়িরর লোকজনের অজান্তে সে জালাল উদ্দিনের সাথে পরোকিয়া প্রেমে জড়িয়ে পড়ে।

প্রেমের সূত্র ধরে শুক্রবার (৯ নভেম্বর) দেলোয়ারের স্ত্রী ফারজানা আক্তার খুকি হবিরগাঁও গ্রামের মনু মিয়ার ছেলে জালাল উদ্দিনের সাথে পালিয়ে যায়। পালিয়ে যাওয়ার সময় ঘর থেকে প্রায় ২ লক্ষ ৯৫ হাজার টাকা ও ৩ ভড়ি স্বর্ণলংকার নিয়ে যায়। এঘটনায় মঙ্গলবার (১৩ নভেম্বর) দোলোয়ারের পিতা মোহাম্মদ আলী বাদী হয়ে বরুড়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন । অভিযোগ নং (২০৩৩/১৮) ।

অভিযোগ সূত্রে বরুড়া থানার এস আই সুমন তাদের সন্ধান বের করে উভয় পক্ষকে শালিশে হাজির হওয়ার জন্য নোটিশ প্রদান করে। সোমবার (১৯ নভেম্বর) বরুড়া থানায় শালিশ শেষে দেলোয়ারের পরিবার পুত্রবধূ খুকিকে গ্রহন না করায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সাহেব সর্দারগণের উপস্থিতে তাকে তার পরিবারের পক্ষে ওয়ার্ড মেম্বার আবদুর রশিদ ও চাচা মনা মিয়ার জিম্বায় দেওয়া হয়।

ফারজানা আক্তার খুকি‘র প্রেমিক জালাল উদ্দিন সরকার দলীয় প্রভাব খাটিয়ে তাকে স্ত্রী হিসেবে গ্রহন করতে পারবে না বলে জানায়। এ মুর্হূতে খুকি ছরম মানসিক বিপর্যয়ের মধ্যে দিয়ে দিন পার করছেন।এ ব্যাপারে জালাল উদ্দিনের বাবা বলেন, আমি একটি শালিশে আছি। এ মুহুর্তে আপনার সাথে কথা বলা সম্ভব নয়, পরে কথা বলেবন বলে সংযোগটি বিচ্ছিন্ন করে দেন।এ বিষয়ে জীবনপুরের স্থানীয় ওয়ার্ড মেম্বার আবদুর রশিদ বলেন, গত সোমবার বরুড়া থানায় ৩ পক্ষের উপস্থিতিতে শালিশ অনুষ্ঠিত হয়। শালিশ শেষে খুকিকে আমার ও তার চাচা মনা মিয়ার জিম্বায় দেওয়া হয়।

এবং বরুড়া থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আমাকে বলেন জালাল উদ্দিনের পরিবারের সাথে স্থানীয়ভাবে বসে বিষয়টি মিমাংশা করে নিতে। এ মুহুর্তে খুকি তার বাপের বাড়িতে রয়েছে এবং বিষয়টি মিমাংশা করার লক্ষে আমরা চেষ্টা করছি বলে জানান।এ ব্যাপারে স্বামী প্রবাসী দেলোয়ার মিয়া মুঠোফোনে সাংবাদিকদের জানান, তার স্ত্রী ফারজানা আক্তার খুকি তার ৪ সন্তান রেখে এবং তার উপার্জিত সহায়সম্ভল নিয়ে সে তার পরোকিয়া প্রেমিকের !

সাথে পালিয়ে গেছে। তাকে পুনরায় স্ত্রী হিসেবে গ্রহন করা তার পক্ষে সম্ভব নয় বলে তিনি জানান। এ বিষয়ে বরুড়া থানা অফিসার ইনচার্জ আজম উদ্দিন মাহমুদ বলেন, সমাজ প্রতিনিধিারা সামাজিকভাবে শালিশ বৈঠকের মাধ্যমে মিমাংশা করে দিবে বলে দায়ীত্ব নেয়। আমরা উভয় পক্ষের ৭টি সন্তানের ভবিষ্যতের চিন্তা করিয়া সমাজের প্রতিনিধিদের কথা রাখি।

ads